বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি, চট্টগ্রাম

বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি, চট্টগ্রাম

৩১/৪০ নন্দনকানন, চট্টগ্রাম / মোবাইল- ০৩১২৮৫৩৩০৯, ০১৭৬৪৭৪৮২৩২

মহাসচিব এর বানী

ময়মনসিংহ,  টাঙ্গাইল,  শেরপুর,  কিশোরগঞ্জ,  জামালপুরনেত্রকোনা এই ছয়টি জেলা নিয়েই বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা । সুপ্রাচীন কাল থেকেই ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা,  সংস্কৃতিক্রীড়া,  রাজনীতিতে অগ্রসর এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য সমৃদ্ধ এক জনপদ । 
নির্দিষ্ট ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য একে দিয়েছে নিজস্বতা । অসংখ্য জ্ঞানী গুণীর জন্ম দিয়েছে ময়মনসিংহ । সমতল ও আদিবাসী মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি বিকাশের মধ্য দিয়ে  এবং তার পারষ্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ঋদ্ধ হয়েছে আমাদের পিতৃপুরুষের জনপদ। 
পাহাড়ের সারি সারি বৃক্ষরাজি,  হাওরের জলাভূমিসমতলের প্রকৃতির অনন্যতার অবদানে ভরে উঠেছে একদা বৃটিশ ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই জেলা। ইতিহাসের ভেলায় চড়ে চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নানান প্রশাসনিক ও দৈনন্দিন প্রয়োজনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছয়টি
 জেলায় বিভক্ত হলেও এই মাটির নাড়ির টান এক জায়গায় প্রোথিত হয়ে আছে ।
আমাদের শৈশব – কৈশোর- যৌবনের স্মৃতিময়তায় ময়মনসিংহ আমাদের জীবনে উজ্জ্বল ও অমোচনীয়। আমাদের কারো কারো দ্বিতীয় বা তৃতীয় কিংবা চতুর্থ প্রজন্মের সন্তানদের কাজ – জীবিকা ও জীবনের  প্রয়োজন জন্মভূমি থেকে ছিটকে নিয়ে গেছে দূরে – বহুদূরে। 
কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত যেমন লিখেছিলেন-

সততহে নদ তুমি পড় মোর মনে

সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।

সতত যেমনি লোক নিশার স্বপনে

শোনে মায়া মন্ত্র ধ্বনি তব কলকলে

জুড়াই এ কান আমি ভ্রান্তির ছলনে।

বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে

কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মেটে কার জলে? ”

কাছে কিংবা দূরে যেখানেই হোক না আমাদের অবস্থান,  মধু কবির কবিতার মতই কিংবা সৈয়দ শামসুল হক এর কবিতার মতই আমাদের ” পরানের গহীন ভিতর “  ডাক দিয়ে যায় ময়মনসিংহ ।

জীবনের অজস্র প্রয়োজনে ময়মনসিংহের বিপুল সংখ্যক মানুষ আজ চট্টগ্রাম অবস্থান করছেন । জীবন ঘষে ঘষে জ্বালাতে আগুন,  কিংবা জ্বালিয়ে জীবনের আগুন আমরা জানি পথচলার আনন্দ অবিমিশ্র নয়। সহযোগিতা- বন্ধন- ভরসার বাড়ানো হাত কখনো কখনো 
কেবল প্রয়োজন নয়জরুরীও বৈকি। সুতরাং,  হাওরের জলে পূর্ণিমার স্মৃতি কেবল আমাদের স্মৃতি ভারাতুর করেনা শুধু,  দায়িত্বও অর্পণ করে । আমাদের পিতৃপুরুষের ভিটে মাটির সাথে গড়াগড়ি খেতে খেতে যাদের শৈশব থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক করে তুলেছে তাঁদের 
কর্তব্যও হয়ে ওঠে স্বজনের পাশে থাকার ।
ময়মনসিংহের উজ্জ্বল – উচ্ছ্বল দিনগুলোর স্মৃতিচারণের তাগিদই শুধু আমাদের এই সমিতিতে একতাবদ্ধ করেনিরয়েছে  আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনকে পারষ্পরিক সহায়তা,  সম্প্রীতি,  বন্ধনের পরশে আরো স্থিতিশীল ও সম্ভাবনায় 
রঙিন করে তোলার তাগিদ । আমাদের মায়ের ভাষা,  মায়ের কোলে বসে শোনা “ময়মনসিংহ গীতিকা”,  “মহুয়ার পালা”কিংবা গারো পাহাড়ের গান আমরা হারিয়ে দিতে পারিনা। যেমন পারিনা আমাদের মাকে ভুলে যেতে ।
ব্যাপক অর্থে কল্যাণ এর ধারণাকে অর্থবহ করে তুলতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি চট্টগ্রাম, সকলের সাথে সকলের যোগে আরো মহৎ কর্মকাণ্ড সূচনা করবে । বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি চট্টগ্রাম মহত্তম সন্তান ও মহত্তম মানুষ গড়ে তুলতে নানাবিধ বৈচিত্র্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড 
অব্যাহত রাখবে এই আশায় বাঁধি বুক।